রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

সখাত সলিলে


সখাত সলিলে


পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধে বামফ্রন্ট আবারো সেই ২০১৬ সালের ভুলের পুনরাবৃত্তির পথেই এগোল। সাথে আরও একটি নতুন পালক যোগ হলো। ভোটের মাস খানেক আগে সদ্য গজিয়ে ওঠা ইণ্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সাথে আসন রফা করে জোট বাঁধা। এই ত্রিবেণী সঙ্গমকে সাধারণ জনগণ কিভাবে নেবে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে আগামী ২রা মে। কিন্তু ঐতিহাসিক ভাবে এই রাজ্যে কংগ্রেস বিরোধী একটি দলের কংগ্রসের মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেও ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাথে জোট বাঁধা বামফ্রন্টের একটি ঐতিহাসিক ভুল ছিল। বামফ্রন্টের ভোটারদের একাংশ নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের বিপুল ভোট দিলেও, কংগ্রেসের ভোটাররা বাম প্রার্থীদের ভোট দেয় নি। এবং অনেক বাম ভোটার বাম প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছিল। কংগ্রেসের সাথে ফ্রন্টের জোট বাঁধার প্রতিবাদ স্বরূপ। ভোটের ফলাফল বিচার বিশ্লেষণ করে তেমনটাই জানা গিয়েছে বলে অভিজ্ঞ নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জানিয়ে ছিলেন। ফলে লাভ হয়েছিল তৃণমূলের। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে এসেছিল সরকারে। তাই এবারে একনিষ্ঠ বাম সমর্থকদের অনেকের আশা ছিল ফ্রন্টের গতস্য শোচনা হবে। কিন্তু অবস্থা বিপাকে সেটিও হয় নি। উল্টে ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শের সাথে আপোস করে সঙ্গে নিতে হয়েছে ইণ্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টকে। এই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের ধর্মনিরপেক্ষতা কতটা প্রকৃত মুখ আর কতটা মুখোশ। সেই বিষয়ে জনগণের মনে যথেষ্ঠ সন্দেহ বর্তমান।

শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১

আন্দোলনের রণকৌশল


আন্দোলনের রণকৌশল


দিল্লীর সীমান্তে আন্দোলনরত সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতৃত্বস্থানীয়দের একটি দল তিনদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে স্থানে স্থানে সংগঠিত প্রতিবাদসভায় অংশগ্রহণ করছে। সাম্প্রতিক তিন কৃষি আইনের বিষয়ে তাঁদের প্রতিবাদের কারণগুলি এই বাংলার কৃষকসমাজের কাছে তুলে ধরে, আইন প্রণোয়নকারী রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষে একটি ভোটও না দেওয়ার অনুরোধ করতেই তাঁদের এখানে আসা। তাঁরা আশা করছেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষক সমাজ সহ সাধারণ মানুষকে এই তিন কৃষি আইনের বিষয়ে ওয়াকিবহাল করতে পারলে, কেন্দ্র সরকারকে একটা ধাক্কা দেওয়া সহজ হবে। আন্দোলনরত কৃষকরা এটা সুস্পষ্ট ভাবে বুঝতে পেরে গিয়েছেন, বর্তমান কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উদ্দেশে নির্বাচনের আসন জেতা হারার বিষয় ছাড়া অন্য কোন ভাষা বোঝেন না। এই সরকার ও তার রথী মহারথীদের সাথে টক্কর দিতে গেলে তাদের ভাষাতেই তাদের সাথে কথা বলতে হবে। কৃষকরা আন্দোলনের বিষয় নিয়ে তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদের কারণগুলি ইতি মধ্যেই সরকারের সাথে মোট এগারো বারের বৈঠকে বোঝানোর প্রয়াস করেছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের কথা বুঝতেই চাননি। ঠিক এই কারণেই পাঞ্জাবের সাম্প্রতিক পুরসভা নির্বাচনে কৃষকরা কেন্দ্র অধিষ্ঠত রাজনৈতিক দলটিকে একেবারে গোহারনো হারিয়ে দিয়েছেন। এমনকি দিল্লীর পুরসভার বাইইলেকশনেও একই ফলফলা ঘটেছে।

মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

স্বৈরতন্ত্রের অভিমুখে


স্বৈরতন্ত্রের অভিমুখে


দিশা রভি’কে গ্রেফতার করে পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয় ঠেকানোর একটা শেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের গল্প শুনিয়ে দেশপ্রেমের আবেগ জাগিয়ে দেশপ্রেম ও সরকারপ্রেমকে সমার্থক প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টার ভিতর দিয়ে। আশা করা গিয়েছিল, দিশা রভি’কে নিয়ে দেশজুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের কল্পকাহিনী পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলকে স্যালাইন জোগাবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে পাঞ্জাববাসী কাঁচকলা দেখিয়ে নির্বাচনে একটি দলকে প্রায় সাফ করে দিয়েছে। দিশা রভিও জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতির বর্তমান গতি প্রকৃতিতে সরকারী ক্ষমতার আস্ফালন ও তার বিকৃত প্রকৃতি উলঙ্গ হয়ে বেআব্রু হয়ে পড়েছে। সরকার ইচ্ছে করলেই তার পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবহার করে সকল রকমের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে কোন ব্যক্তিতে যে কোন সময় গ্রেফতার করতে পারে। এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে সরকারের পক্ষে জনমত জোগার করার খেলা খেলতে পারে। এটাই ২০১৪ পরবর্তী ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় চিত্র। তাতে দিশা রভি’র মত মাত্র একুশ বাইশ বছরের তরুণীকেও সরকার রাষ্ট্রের নামে অত্যাচার করতে ছাড়ে না। চলমান কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে যারাই এগিয়ে আসছে, তাদেরই দিশা রভি’র মতো পরিণতি ঘটতে পারে। যেমন ঘটেছিল সাংবাদিক পুনিয়ার ক্ষেত্রে।

বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

দাঙ্গা বিদ্ধস্ত দিল্লী




দাঙ্গা বিদ্ধস্ত দিল্লী

ঘটনার তিনদিনের মাথায় মৃত ২৩ জন। আহত ১৮০ হন। সরকারি তথ্যমাত্র। প্রকৃত অবস্থা এখনো পরিস্কার নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কল্পনার অতীত। না, ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে নি। খুব ভালো করে পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়েছে। ঘটানো হয়েছে কেন, সেটি ঘটনা পরম্পরা ভালো করে পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে। বাস্তবে অনভিপ্রেত, বিশেষ করে হিংসাত্মক ঘটনাগুলির পর, যে পক্ষ অধিকত সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছিয়ে যায়, যে পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়, বুঝতে হবে ঘটনার পিছনে মূল পরিকল্পনায় তাদেরই মদত থাকা স্বাভাবিক। এমনটাই সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে দেশে বিদেশে। সে গুজরাট দাঙ্গাই হোক। গোধরা কাণ্ডই হোক। টুইন টাওয়ার ধ্বংসই হোক। পুলওয়ামার মৃত্যু মিছিলই হোক্, দেখতে হবে প্রতিটি ঘটনার ফলে কোন পক্ষের স্বার্থ অধিকতর সুরক্ষিত হয়েছে। কোন পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি দ্রুততর বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তখন আর এটা বোঝা দুঃসাধ্য হবে না, মূল ঘটনাগুলি কাদের স্বার্থে ঘটানো হয়েছিল। প্রতিটি ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে ঘটনোর পিছনে কিছু স্বার্থ জড়িত থাকে। ঘটনার অব্যবহিত পরেই যে সেটি সবসময় পরিস্কার ধরা পড়ে তা নাও হতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে, ঘটনার ফলে কোন পক্ষ অধিকতর সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছিয়ে যায়, সেটি বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তখন কোন রহস্যই আর রহস্য থাকে না।

মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

দিল্লী বিধানসভা নির্বাচন ২০২০


দিল্লী বিধানসভা নির্বাচন ২০২০

ইভিএমে আঙ্গুলের চাপ দিয়ে শাহিনবাগে কারেন্ট লাগানোর ডাককে দিল্লীবাসী রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সারা ভারতে একটি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দিল এই ২০২০’র দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনে। দক্ষ প্রশাসন সুশাসন জনসেবামূলক কার্যক্রম শিক্ষা স্বাস্থ বিদ্যুৎ জল ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিই একটি নির্বাচনের মুখ্য বিষয়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ধর্মীয় বিভাজন জনগণের স্বাধীন কন্ঠস্বরকে দেশদ্রোহীতা বলে প্রচার ইত্যাদি বিষয়গুলি নির্বাচনে জয়লাভের পক্ষ যথেষ্ট নয়। দিল্লী নির্বাচনের আগে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে পোশাক দেখে মানুষ চেনার সেই ঐতিহাসিক বয়ানকেও ঝাড়খণ্ডবাসী এইভাবেই রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। জনগণ দলমত ধর্ম বর্ণ শ্রেণী নির্বিশেষে সুস্থ ও নিরাপদ শান্তি ও উন্নয়নমূলক জীবনধারার প্রত্যাশী। সেই জনগণকে কিছুদিনের জন্য জাতপাতের বিভাজন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ধর্মীয় উন্মাদনা প্রতিবেশি দেশের সম্বন্ধে জাতক্রোধ ইত্যাদি বিষয়গুলি দিয়ে বিভ্রান্ত করে রাখা গেলেও, জনগণই সেই বিভ্রান্তি দূর করে সঠিক পথের হদিশ বার করার ক্ষমতা রাখে। সদ্য অনুষ্ঠিত ঝাড়খণ্ড ও দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সেই সত্যকেই সুপ্রতিষ্ঠিত করল।

মনে রাখতে হবে, সদ্য পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধীতায় দেশব্যাপি তুমুল আন্দোলনের মধ্যেই এই দুটি বিধানসভা নির্বাচন সংঘটিত হয়েছে। ফলে এই দুই নির্বাচনের ফলাফলকে এই আন্দোলনের অভিঘাত থেকে পৃথক করে দেখা যাবে না। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ যেভাবে পথে নেমে প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে, তার সরাসরি প্রভাবও সদ্য অনুষ্ঠিত এই দুই নির্বাচনে দেখা গিয়েছে। দুই নির্বাচনেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ এর প্রবক্তা ও সমর্থকদের মুখ পুড়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২০

বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি



বিদ্বেষ ও বিভাজনের রাজনীতি

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশের মানুষের উপর অর্থনৈতিক শোষণ চালানো একটি রাজনৈতিক কার্যক্রম। বর্তমানে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এই কার্যক্রমের সফল প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে অনেকটাই। ক্ষমতার অপব্যবহারেও, এই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রয়াস খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। শুধুই রাজনৈতিক ভাষণের ভিতর দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো নয়, সরকারী আইন প্রয়োগ করেও এই বিদ্বেষ ছড়ানোর অপপ্রয়াস দেখা যাচ্ছে। আর তারই প্রতিবাদে, সমাজের শুভবোধ সম্পন্ন মানুষ আজকে পথে নামা শুরু করেছে। সংবিধান বিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে হাতিয়ার করে ভারতব্যাপি যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সুখের কথা দেশের ছাত্রসমাজ প্রথমেই তার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছে। পাশে এসে দাঁড়িয়েছে নারীসমাজের একটি বড়ো অংশ। এর ফলেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ এবং দেশ ব্যাপি এন আর সি ও এন পি আর চালু করার বিরুদ্ধে আসমুদ্র হিমাচল ছাত্র যুবা নারী পথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে। সরকার পক্ষ থেকে সেই সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে দ্রুত ফলপ্রসু করে তোলার জন্য যাবতীয় প্রয়াস জারি রয়েছে। আর সেই উদ্দেশেই আন্দোলনরত জনগণের উপর দেশবিরোধী রাষ্ট্রবিরোধী ও বিশ্বাসঘাতক তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের ভিতর সরকারপন্থীদেরকে নানা ভাবে উস্কানী দেওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশে। এই প্রয়াসে রাজনৈতিক নেতানেত্রী, মন্ত্রী আমলা সকলকেই কাজে লাগানো হচ্ছে খুব নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক।

বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০

মেন ইন ইউনিফর্ম



মেন ইন ইউনিফর্ম

ক‌োথায় পৌঁছিয়েছে রাজনৈতিক নোংরামো! সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নোংরা রাজনৈতিকর সংস্কৃতির আমদানী করা হচ্ছে বিরোধী রাজনীতির পরিসরকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে! কয়দিন আগেই দিল্লীতে সরকারী নীতির বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত জন আন্দোলনকে বদনামের ভাগী করার জন্য সরকারী নির্দেশে উর্দি পড়া পুলিশবাহিনীকে বাসে আগুন দিতে দেখা গিয়েছে। প্রায় একই সময়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের রাজ্য শাখার এক সাধারণ কর্মীকে কয়েকজন সাগরেদ সহ রেল লাইনে দাঁড়িয়ে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার নকল ভিডিও তোলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ এক সম্প্রদায়ের বদনাম রটিয়ে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপি জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা। এবং সেই একই সময়ে দেশের প্রধানকে নির্বাচনী সভায় গলা চড়িয়ে বলতে শোনা গিয়েছিল, পোশাক দেখেই নাকি অপরাধী চেনা যায়। সৌভাগ্যের কথা, সেই নির্বাচনে তাঁর দলকে রাজনৈতিক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যবাসী এইসব রাজনৈতিক নোংরামোর বিরুদ্ধেই সুষ্পষ্ট রায় জানিয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০

জেএনইউয়ে হামলা এবং পুলিশের ভুমিকা




জেএনইউয়ে হামলা এবং পুলিশের ভুমিকা

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ভীত সন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা যখন থানায় ফোন করে প্রাণরক্ষার জন্য পুলিশের কাছে সুরক্ষা চায়, তখন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশের কি কর্তব্য হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরেও যদি বিতর্ক গড়ে ওঠে, তবে বুঝতে হবে দেশের ভিতর অনৈতিকতার শিকড় অনেক গভীরে প্রবেশ করেছে। দেশবাসীর একটা বড়ো অংশের ভিতর মানবিকতা নামক প্রকৃতির অপমৃত্যু হয়েছে। মনে রাখতে হবে, মাত্র কিছুদিন আগেই, সেই দিল্লীরই জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশি হামলায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করার অপচেষ্টা হয়েছিল। এবং সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে থেকে ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি নেওয়ার অপেক্ষাও করে নি রাষ্ট্রের পুলিশ। অথচও এই পুলিশই জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ফোন পেয়েও উপাচার্য্যের অনুমতির অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে ঘন্টার পর ঘন্টা নিধিরাম সর্দারের মতো দাঁড়িয়ে থাকল। এবং ক্যাম্পাসের ভিতর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বেলাগাম হামলা চালিয়ে যেতে মদত দিল।

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

এনপিআর



এনপিআর

এনপিআর অর্থাৎ ন্যাশানাল পপুলেশন রেজিস্টার। বাজেট বরাদ্দ হয়েছে আট হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। এই টাকা শুধু মাত্র খরচ হবে দেশে বসবাসকারী মানুষের তথ্য ভাণ্ডার তৈরী করতে। না এমন নয়, সরকারের কাছে এই তথ্য ভাণ্ডার নাই। আছে। দশ বছর আগেই করা হয়েছিল প্রথম এনপিআর। দশ বছর অন্তর এই তথ্য ভাণ্ডার নবীন করণ করার নিয়ম। নিয়মটি করা হয়েছিল ২০০৩ সালের করা নাগরিক সংশোধনী আইনের নির্দেশ অনুসারে। সম্পূর্ণ অনুৎপাদক একটি খরচ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশবাসীর কাঁধে। দেশে প্রতি দশ বছর আদমসুমারী হয়। দেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে সারা দেশের ভোটাধিকার প্রাপ্ত নাগরিকদের তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে। রয়েছে আধার কার্ডে ধারণ করা প্রত্যেক নাগরিকের বিস্তৃত তথ্যও। তারপরেও আবার এনপিআর। এনপিআর হচ্ছে এনআরসি করার প্রথম ধাপ। কংগ্রেস দলের প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, ২০১০ সালে কংগ্রেস সরকার প্রথম এনপিআর করে বুঝতে পারে, ভারতবর্ষের মতো দেশে পরের ধাপ এনআরসি তৈরী করা খুবই জটিল একটি বিষয়। তাই তারা এনপিআর করেই থেমে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার আসে। সরকার যায়। নতুন সরকার তার নতুন এজেণ্ডা অনুসারে কাজ শুরু করে দেয়। আর ঠিক সেই কারণেই এবার যে এনপিআর করার জন্য ৮৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলো, তাতে যে সকল তথ্য আগের বারে নেওয়া হয়েছিল, তার সাথে আরও সাতটি নতুন তথ্য এবারে নেওয়া হবে। এবারে শুধু নিজের জন্ম তারিখ ও জন্মস্থান জানালেই হবে না। জানাতে হবে নিজের পিতামাতার জন্ম তারিখ ও জন্মস্থানের নামও। সাথে মোবাইল নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার নম্বর, ইত্যাদি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য।

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ধর্ষণ ও জনতা




ধর্ষণ ও জনতা

সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত চার যুবকের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুতে অধিকাংশ দেশবাসীই উল্লসিত। সকলেই সন্তুষ্ট এই ভেবে যে, এইবার অপরাধীরা সঠিক সাজা পেল। তারাই প্রকৃত অপরাধী কিনা, না সেই বিষয়ে কারুর মনে কোন সংশয় নাই। সংশয় নাই কারণ হাদ্রাবাদের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট পুলিশ বাহিনী এই চার যুবককেই প্রকৃত অপরাধী বলে ঘোষণা করেছে। মানুষ পুলিশের ঘোষণাকেই আদালতের রায়ের সমগোত্রীয় বলে ধরে নিয়েছে। তাই এনকাউন্টারে অভিযুক্তদের মৃত্যু জনতার চোখে অপরাধীদের সঠিক শাস্তি বলেই মনে হয়েছে। বিশেষ করে হায়দ্রাবাদের সেই পশু চিকিৎসক তরুনীর মৃত্যুতে দেশব্যাপি তুমুল বিক্ষোভের পর এই এনকাউন্টারকেই মানুষ তাদের বিক্ষোভের জয় বলেই মনে করেছে।

ঠিক এই ঘটনার পরপরেই উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে আদালতের রায়ে। এবং দোষী সাব্যস্ত বিধায়কের যাবোজ্জীবন সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সেই বিধায়ক যার বিরুদ্ধে অভিযোগকারিনী ধর্ষিতাকে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে। যে চক্রান্তে অভিযোগকারিনীর দুই আত্মীয়ার মৃত্যুও হয়েছে। মারাত্মক ভাবে আহত হতে হয়েছে অভিযোগকারিনী তাঁর উকিলকেও। প্রায় মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এসেছেন তাঁরা দুজনেই দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে। অভিযোগ রয়েছে বিধায়কের প্রভাব খাটিয়ে ধর্ষিতার বাবকে পুলিশি হেফাজতে পিটিয়ে মেরে ফেলারও। এহেন প্রভাব প্রতিপত্তিশালী দুর্বৃত্ত বিধায়কের জন্য মাত্র ১৪ বছরের কারাদণ্ড?

যে উত্তাল বিক্ষোভ হায়দ্রাবাদের পুলিশি এনকাউন্টারকে দুহাত তুলে অভিনন্দিত করেছিল, সেই উত্তাল বিক্ষোভ মাত্র ১৪ বছরের কারাদণ্ডকে মেনে নিল কোন জাদুবলে? নাকি, রাস্তাঘাটের সাধারণ ধর্ষক আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংসদ বিধায়ক ধর্ষকদের অপরাধের মাত্রা ভিন্ন রকমের? যে জনতা সাধারণ ধর্ষকের সাজার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখায়, সেই জনতাই রাজনৈতিক নেতারা ধর্ষণের দায়ে ধরা পড়লেও ঘরে বসে থাকে কোন জাদুতে্!

কপিরাইট পোস্টমর্টেম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত