বুধবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২০

মেন ইন ইউনিফর্ম



মেন ইন ইউনিফর্ম

ক‌োথায় পৌঁছিয়েছে রাজনৈতিক নোংরামো! সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে, নোংরা রাজনৈতিকর সংস্কৃতির আমদানী করা হচ্ছে বিরোধী রাজনীতির পরিসরকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে! কয়দিন আগেই দিল্লীতে সরকারী নীতির বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত জন আন্দোলনকে বদনামের ভাগী করার জন্য সরকারী নির্দেশে উর্দি পড়া পুলিশবাহিনীকে বাসে আগুন দিতে দেখা গিয়েছে। প্রায় একই সময়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের রাজ্য শাখার এক সাধারণ কর্মীকে কয়েকজন সাগরেদ সহ রেল লাইনে দাঁড়িয়ে রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার নকল ভিডিও তোলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ এক সম্প্রদায়ের বদনাম রটিয়ে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপি জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা। এবং সেই একই সময়ে দেশের প্রধানকে নির্বাচনী সভায় গলা চড়িয়ে বলতে শোনা গিয়েছিল, পোশাক দেখেই নাকি অপরাধী চেনা যায়। সৌভাগ্যের কথা, সেই নির্বাচনে তাঁর দলকে রাজনৈতিক ভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যবাসী এইসব রাজনৈতিক নোংরামোর বিরুদ্ধেই সুষ্পষ্ট রায় জানিয়ে দিয়েছে।


দিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে সরকারী সম্পত্তির উপর। আবার দিল্লীর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সরকারী পুলিশের প্রহরায় বহিরাগত গুণ্ডাবাহিনীকে অবাধে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে, সরকারের নীতি বিরোধী ছাত্রকন্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে নৃশংস হামলা চালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসবই হয়েছে সংকীর্ণ ও ঘৃণ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বার্থেই। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশ বাহিনীকে দিয়েই এই সব নোংরামো করানো চলছে।

না এই বিষয় বিশেষ কোন একটি রাজনৈতিক দলের দিকেই আঙুল তোলার উপায় নাই। বস্তুত, সরকারী ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফয়দা তোলার এই অপসংস্কৃতি থেকে প্রায় কোন দলই মুক্ত নয়। যে দল যত বেশী পরিমাণে সরকারী ক্ষমতার অধিকার, সেই দলের দিকে এই অপসংস্কৃতির পাল্লা বেশী ভারী। ঠিক সেই ধরণের ঘটনাই দেখা গেল আবার ৮ই জানুয়ারী ভারত বন্ধের হরতালের সময়। আমাদের রাজ্যেই। রাজ্য সরকারের গদিতে গদিয়ান, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই হরতালের প্রতিবাদের বিষয় সম্বন্ধে সমর্থন জ্ঞাপন করলেও তিনি বন্ধের বিরোধীতায় সর্বাত্মক ভাবে সরকারী ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। হরতালকে বানচাল করে দিতে। সেটি অবশ্য তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকারের ভিতর পড়ে। সেই নিয়ে বিতর্ক নাই। ঠিক যেমন বিতর্ক নাই জনগণ বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দরকারী ইস্যুতে বন্ধ হরতাল পালন করার। বন্ধ হরতাল নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকার খর্ব করা মানে গণতন্ত্রের মূলেই কুঠারাঘাত।

কিন্তু সেই অধিকার খর্ব করতে গিয়ে বন্ধ হরতালের সমর্থকদের নামে বদনাম ছড়াতে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মী দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় বন্ধ সমর্থকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়াস একটি জঘন্যতম ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ঠিক সেই ঘটনাই ঘটেছে মালদহের সুজাপুরে। উর্দিধারী পুলিশকর্মীদের দেখা যাচ্ছে বন্দুকের বাট দিয়ে পরপর দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীর কাঁচ ভাঙ্গতে। অবশ্যই এর একটিই উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সুজাপুরের মতো জায়গায়, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাস। সেখানে গাড়ি ভাঙ্গচুর অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা বন্ধসমর্থকদের শুধু কালিমালিপ্তই করবে না, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এলাকা হওয়ায়, বিশেষ করে একটি সাম্প্রদায়িক মাত্রাও যোগ করবে।

এখন প্রশ্ন উর্দিধারী পুলিশ সরকারী হোক বেসরকারী হোক জনসম্পত্তি নষ্ট করতে পারে না। তাদের কাজ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও ধনসম্পত্তি ধ্বংস করা থেকে বিক্ষোভরত জনগণকে বিরত করা। সেখানে পুলিশকেই যদি বন্দুকের বাট দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা যায়, তখন নিশ্চিত, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া নীচুতলার পুলিশের পক্ষে এমন বেআইনী কাজ কর কখনোই সম্ভব নয়। আর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সরকারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ক্রীড়নকে পরিণত না হলে এমন অভাবিত ঘটনা ঘটে না।

এইটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের দুষ্টখত। প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই, সরকারী ক্ষমতার অপব্যাবহার করতে পুলিশকে নিজেদের দলদাসে পরিণত করে ফেলে। ভারতীয় সংবিধান পুলিশকে আজও সরকারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনের বাইরে নিরপেক্ষ পরিসর দেয়নি বলেই মনে হওয়া স্বাভাবিক। কেননা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে পুলিশের ভুমিকা সেই সাক্ষ্যই দেয়। এখন জনগণকেই ঠিক করতে হবে, তারা পুলিশেকে এই চক্রব্যূহ থেকে মুক্ত করার কোন পথ খুঁজবে কিনা?

৮ই জানুয়ারী ২০২০

কপিরাইট পোস্টমর্টেম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন