মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

স্বৈরতন্ত্রের অভিমুখে


স্বৈরতন্ত্রের অভিমুখে


দিশা রভি’কে গ্রেফতার করে পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয় ঠেকানোর একটা শেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের গল্প শুনিয়ে দেশপ্রেমের আবেগ জাগিয়ে দেশপ্রেম ও সরকারপ্রেমকে সমার্থক প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টার ভিতর দিয়ে। আশা করা গিয়েছিল, দিশা রভি’কে নিয়ে দেশজুড়ে রাষ্ট্রদ্রোহের কল্পকাহিনী পাঞ্জাব পুরসভার নির্বাচনে দলকে স্যালাইন জোগাবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে পাঞ্জাববাসী কাঁচকলা দেখিয়ে নির্বাচনে একটি দলকে প্রায় সাফ করে দিয়েছে। দিশা রভিও জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ভারতবর্ষের রাজনীতির বর্তমান গতি প্রকৃতিতে সরকারী ক্ষমতার আস্ফালন ও তার বিকৃত প্রকৃতি উলঙ্গ হয়ে বেআব্রু হয়ে পড়েছে। সরকার ইচ্ছে করলেই তার পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবহার করে সকল রকমের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যে কোন ব্যক্তিতে যে কোন সময় গ্রেফতার করতে পারে। এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে তাঁবেদার গণমাধ্যম জুড়ে সরকারের পক্ষে জনমত জোগার করার খেলা খেলতে পারে। এটাই ২০১৪ পরবর্তী ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় চিত্র। তাতে দিশা রভি’র মত মাত্র একুশ বাইশ বছরের তরুণীকেও সরকার রাষ্ট্রের নামে অত্যাচার করতে ছাড়ে না। চলমান কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে যারাই এগিয়ে আসছে, তাদেরই দিশা রভি’র মতো পরিণতি ঘটতে পারে। যেমন ঘটেছিল সাংবাদিক পুনিয়ার ক্ষেত্রে।

সরকার ও সরকারী ক্ষমতায় আসীন রাজনৈতিক শক্তি এই সকল কাজের ভিতর দিয়ে দেশ জুড়ে সুস্পষ্ট একটা বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। দেশবাসী বুঝতে পেরেছে, সরকারের কোন কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠতে গেলেই পুলিশ ও প্রশাসনের অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হবে। ভয় ও ভীতিতে মানুষকে গৃহবন্দী করে রাখার এই এক সহজ পথ। পুলিশ ও প্রশাসন যখন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকার বিরোধী কন্ঠস্বরকে মিথ্যা অভিযোগে অবরুদ্ধ করে ফেলতে শুরু করে, দেশ তখন সুনির্দিষ্ট পথেই স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির হাতে বন্দী হয়ে পড়ে। এবং স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি দিনে দিনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকে। যত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকে ততই দমন পীড়নের ধারা চলতে থাকে। দেশবাসীর এক বড়ো অংশই তখন আত্মরক্ষার্থে সেই স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির পক্ষ অবলম্বন করে ভয়ে ভক্তিতে। দেশবাসীর এই অংশই স্বৈরতান্ত্রিক শক্তির বিশেষ বল ভরসা। বাকি অংশের মানুষ সংখ্যালঘু মানসিকতার শিকার হয়ে অধিকাংশই মুখে কুলুপ লাগিয়ে নিশ্চুপ থাকে। ফলত সরকারের অন্যায় অবিচারের শিকার হওয়া মানুষজনের পক্ষে জনসমর্থন এতই কম থাকে যে, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে সরকার বিরোধী শক্তিগুলিকে গারদের ভিতরে আটকিয়ে রাখা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। তাই দিশ রভি’র ঘটনা ভারতবর্ষের অদূর ভবিষ্যতের দিশা দেখাচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে দেশ এগিয়ে চলেছে কোন অভিমুখে। 

২রা মার্চ’ ২০২১

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন